যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ায় চীনের অর্থনীতিতে কিছুটা ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটি সুদহারে কাটছাঁট করেছে। এতে গতকাল এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি প্রবণতা দেখা গেছে। খবর এপি।
গতকাল সুদহার ১০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে আনে চীন, যা বাজারের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল গেছে। এ সময় ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে সুদহার ৩ শতাংশ করা হয়। এছাড়া গৃহঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণে সুদহার ৩ দশমিক ৬ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
এদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক ব্যাটারি প্রস্তুতকারক সিএটিএল হংকংয়ে ট্রেডিং শুরু করে। প্রথম দিনেই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি সংগ্রহ করেছে ৪৬০ কোটি ডলার, যা এ বছরের সবচেয়ে বড় আইপিও। চীনের মূল ভূখণ্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ারবাজার শেনজেনে সিএটিএলের শেয়ারদর দিনের শুরুতে সামান্য কমে গেলেও পরে ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে।
হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৪ ও সাংহাই কম্পোজিট সূচক দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। টোকিওতে নিক্কেই ২২৫ সূচক দশমিক ১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক দশমিক ১ শতাংশ কমলেও তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ভারতের সেনসেক্স সূচকে দশমিক ৪ শতাংশ পতন দেখা গেছে।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাত মাসের মধ্যে এ প্রথম সুদহার কমিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৃষ্ট শুল্ক বিবাদের মধ্যে তারা আরো প্রণোদনার আশা করছিলেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, মূল্যস্ফীতি এখন চীনের মূল উদ্বেগ নয়। বরং দুর্বল চাহিদার কারণে সৃষ্ট মূল্যসংকোচনকে সমস্যা আকারে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে খুচরা বিক্রি ও কারখানার উৎপাদন কমে গেছে এবং রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে, যা স্পষ্টতই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব।
এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের কর্মকর্তা ঝিচুন হুয়াং বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে সুদহার আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুদহারে স্বল্পমাত্রার কাটছাঁট ঋণের চাহিদা কিংবা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না।’